বরিশালে বাংলাদেশ এনজিওজ নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন-বিএনএনআরসির উদ্যোগে ‘প্রযুক্তির সহায়তায় জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ : বর্তমান অবস্থা, সুযোগ, চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো মাল্টিস্টেকহোল্ডার টকস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিএনএনআরসি’র ‘স্ট্রেনদেনিং রেজিলিয়েন্স এগেইনস্ট টেকনোলজি ফেসিলিটেটেড জেন্ডার বেইসড ভায়োলেন্স-টিএফজিবিভি এন্ড প্রমোটিং ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত টকসটি ছিলো নাগরিকতা : সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড-সিইএফ কর্মসূচির অংশ, যা বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা দিয়েছে জিএফএ কনসালটিং গ্রুপ আর অর্থায়ন করেছে সুইজারল্যান্ড দূতাবাস ও গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা-জিএসি।
এই আয়োজনে স্থানীয় প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী সমিতি, নারী-নেতৃত্বাধীন এনজিও এবং নারী অধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের ৪২ জন অংশগ্রহণকারীর পাশাপাশি সনাক, সুজন, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট, ওয়েব ফাউন্ডেশন প্রতিনিধি প্রতিনিধি, যুব ও যুব নারী এবং অপরাজেয় বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও যুব নেতৃত্ব, মিডিয়া পেশাদার, ইউটিউবার এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটর প্রতিনিধিও অংশ নেন।
আলোচনার প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল প্রযুক্তির সহায়তায় জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও এর সমাধানগুলোকে উৎসাহিত করা, কৌশলগত নেটওয়ার্কিংকে উৎসাহিত করা, নিরাপদ ডিজিটাল ক্ষেত্র তৈরি করা এবং একটি স্থিতিশীল ডিজিটাল উন্নয়নের জন্য সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা।
স্পিড ট্রাস্টের মিশন প্রধান এ এইচ এম শামসুল ইসলাম সবাইকে স্বাগত জানিয়ে আয়োজনের উদ্দেশ্য এবং প্রত্যাশিত ফলাফলের রূপরেখা তুলে ধরেন ও পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।।
প্রজেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ : বর্তমান অবস্থা, সুযোগ, চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় নিয়ে একটি ধারণাগত স্বচ্ছতা আনয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন পরিচালনা করেন বিএনএনআরসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম বজলুর রহমান। এই অধিবেশনে টিএফজিবিভি মোকাবেলার জন্য সংজ্ঞা, ধরন, প্রভাব এবং বিদ্যমান আইনি ও নীতি কাঠামো নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এরপর সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ডের ডেপুটি টিম লিডার ক্যাথারিনা কোয়েনিগ, নাগরিকতা : সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ডের লক্ষ্য, ফলাফল, অংশীদার, প্রশাসনিক কাঠামো ও সুবিধাভোগীদের বিষয়ে আলোচনা করেন।
তিনি সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ডের তিনটি মূলনীতি সম্পর্কেও আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, মূল নীতিগুলো হলো সহযোগী অংশীদারিত্ব ও সহ-সৃষ্টি, ‘কাউকে পিছনে ফেলে না যাওয়া’এবং পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা।
লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শুভঙ্কর চক্রবর্তী ‘পটুয়াখালীর বর্তমান অবস্থা : সুযোগ, চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক একটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
এরপর, ‘টিএফজিবিভি মোকাবেলায় মাল্টিস্টেকহোল্ডারদের প্রত্যাশিত ভূমিকা’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে টিএফজিবিভির ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপ, ভাগাভাগি করা দায়িত্ব ও উদ্ভাবনী কৌশলের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাহানারা পারভীন। তিনি নারী ও ছাত্রীদের জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা ও টিএফজিবিভির প্রাথমিক শিকার হিসেবে তাদের দুর্বল বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তিনি স্বীকার করেন যে পুরুষরাও টিএফজিবিভিতে আক্রান্ত হতে পারে, এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ কার্যকরভাবে মোকাবেলা করার জন্য নীতিনির্ধারক, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও কমিউনিটির সদস্যদের ঐক্যবদ্ধভাবে আরও কাজ করতে হবে।
তিনি প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা কার্যকরভাবে মোকাবেলা করার জন্য সমাজের সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতামূলক এবং ব্যাপক প্রচেষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইমরান হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে টিএফজিবিভি প্রতিরোধে সম্মিলিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
তিনি একটি নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য পরিবারের সদস্য, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
তিনি জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতার নতুন রূপের জটিলতা ও উত্থানকে স্বীকৃতি দিয়ে কমিউনিটির সদস্য এবং প্রশাসনের মধ্যে সহযোগিতার গুরুত্বের উপর জোর দেন।
ভুক্তভোগীদের আইনি আশ্রয় নিতে এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনাগুলো রিপোর্ট করতে উৎসাহিত করা হয়।
আরও বলা হয়, ‘টিএফজিবিভি কার্যকরভাবে মোকাবেলা করার জন্য আমাদের সকলের নিজ নিজ ক্ষমতায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ও পরিবারে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা খুব জরুরি।’
এনজিও কর্মী জিয়াউল আহসান অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানান এবং সমাজে টিএফজিবিভিভি মোকাবেলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে নিজ নিজ ক্ষেত্র থেকে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভাপতির আলোচনায় অধ্যক্ষ গাজী জাহিদ হোসেন বলেন, এই উদ্যোগ নাগরিক সমাজ ও সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে বর্ধিত সমন্বয় গড়ে তুলবে, যা নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর মধ্যে শক্তিশালী সহযোগিতা, অংশীদারিত্ব ও নেটওয়ার্কিংয়ের পথ প্রশস্ত করবে। এই মাল্পিস্টেকহোল্ডার টকস একটি নিরাপদ এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল ক্ষেত্র তৈরি করবে, বিশেষ করে বরিশাল বিভাগের যুব, যুব নারী এবং প্রান্তিক গোষ্ঠীর জন্য।–সংবাদ বিজ্ঞপ্তি