নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ থানা পুলিশ নাশকতার পরিকল্পনাকারী ৫ জনকে আলামতসহ গ্রেফতার করেছে।
সিলেট জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল জানায়, মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর/২৬ কার্তিক) রাত ১২টার দিকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কচুয়াবহর এলাকায় সিলেট-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কে চেকপোস্ট পরিচালনা করে থানা পুলিশ উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্মআহ্বায়ক কাবিলুর রহমান সোহেলকে (২৪, পিতা জিল্লুর রহমান, হাঁটুভাঙ্গা, ফেঞ্চুগঞ্জ, সিলেট) গ্রেফতার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে তার নিকট থেকে পুলিশ জানতে পারে, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নিউইয়র্ক যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের (পিতা তেরা মিয়া, সুলতানপুর, ফেঞ্চুগঞ্জ, সিলেট) নির্দেশ ও অর্থায়নে আগামী ১৩ নভেম্বর লকডাউন উপলক্ষে তাদের ফেঞ্চুগঞ্জে রেললাইনের স্লিপার খুলে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল।
মিডিয়া সেল আরও জানায়, কাবিলুর রহমান সোহেলের দেওয়া তথ্য মতে ফেঞ্চুগঞ্জ থানা পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে নাশকতার পরিকল্পনা কাজে অংশগ্রহণকারী উপজেলার মুহিবুল ইসলাম কাওসার (২৭, পিতা আব্দুল খালেক, কায়স্থগ্রাম), সায়মন আহমদ (২০, পিতা মৃত আনোয়ার হোসেন, পূর্ব ফরিদপুর, নয়াবাজার), সিজিল চৌধুরী (২৮, পিতা ফরিদ চৌধুরী, বড়গাঁও, ৫ নম্বর ওয়ার্ড, ভাদেশ্বর ইউনিয়ন, বাহুবল, হবিগঞ্জ, বর্তমান ঠিকানা হাটুভাঙ্গা মাদরাসা) ও মিনহাজ উদ্দিন মাহিন (২০ পিতা মাহতাব উদ্দিন, পশ্চিম ফরিদপুর) গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের ফেঞ্চুগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদ, ফেঞ্চুগঞ্জ ও মাইজগাঁও রেলস্টেশন, কুশিয়ারা টুল প্লাজা, শাহজালাল সার কারখানা ও ফেঞ্চুগঞ্জ থানাসহ সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা তথা নাশকতা হিসাবে ১২ নভেম্বর রাতে ককটেল-বোমা বিস্ফোরণের ও ফেঞ্চুগঞ্জে রেল লাইনের স্লিপার খুলে রেলগাড়ি লাইনচ্যুত করার পরিকল্পনা ছিল।
এছাড়াও আসামি কাবিলুর রহমান সোহেলের স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে মিনহাজ উদ্দিন মাহিন ও সায়মন আহমদের নিকট থেকে নাশকতার কাজে ব্যবহারের ককটেল তৈরির উপকরণ ৯টি সাদা রঙের কস্টেপ, ৩টি লাল রঙের কস্টেপ, ২টি সাদা ও সবুজ রঙের কাগজের তৈরি ছোট বাক্স, ১৩২টি রূপালী রঙের গাজী টোপকাটা, ৩০৫টি মারবেল, ৪টি কালো রঙের প্লাস্টিকের ছোট বালতি ও বাদামী রঙের ১ কেজি ধানের ভূষি (ধানের কুড়া) জব্দ করা হয়।
আসামিদের বিরুদ্ধে নাশকতা পরিকল্পনা ও চেষ্টার অপরাধে ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় মামলা রুজু করা হয়।