উত্তম কুমার পাল হিমেল
নবীগঞ্জ : বীর মুক্তিযোদ্ধা ধ্রুবর ৫০ তম শাহাদাত দিবস ৪ ডিসেম্বর। নবীগঞ্জ থানা সদর মুক্ত করতে পাকিস্তানি হানাদারদের সঙ্গে সন্মুখযুদ্ধে শহীদ হন তিনি; কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছরেও তার স্মৃতি রক্ষায় কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের ৪ তারিখ। সারাদেশের মতো নবীগঞ্জেও পাকবাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা হামলায় দিশেহারা ছিল। থানা ভবন প্রাঙ্গণে বাংকারে আশ্রয় নিয়ে রাজাকারদের সহায়তায় চেষ্টা করছিল নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে। এমন পরিস্থিতিতেও সুযোগ বুঝে বিভিন্ন গ্রামে অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছিল।
এ অবস্থায় বীর সৈনিক রশীদের নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনী নবীগঞ্জ থানা ভবন প্রাঙ্গণে খান সেনাদের উপর আঘাত হানতে আসে। কাকডাকা ভোরে মুক্তিযোদ্ধা কনা মিয়ার বাড়ির পুকুরপাড়ে অবস্থান নেয় হানাদারকের অবস্থান লক্ষ্য করে। একপর্যায়ে দলের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ধ্রুব পাকসেনাদের বাংকার ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হাতে ক্রলিং করে অগ্রসর হতে থাকেন নবীগঞ্জ-বানিয়াচং সড়কের উপর দিয়ে। অন্যদিকে সহযোদ্ধাগণ শক্রসৈন্যদের লক্ষ্য করে ছুঁড়তে থাকেন মেশিন গানের গুলি। শক্ররাও পাল্টা গুলি ছুঁড়তে থাকে।
তবে সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিবাহিনী আত্মরক্ষার্থে পিছু হটতে থাকে; কিন্তু ধ্রুবর আর পিছুহটা হয়না। কারণ শত্রুর গুলিতে তার বুকের পাঁজর ততক্ষণে ঝাঁঝরা হয়ে গেছে।
অনেকক্ষণ তার মরদেহ পড়ে থাকে নবীগঞ্জ-বানিয়াচং সড়কের উপর। তবে একসময় পার্শ্ববর্তী রাজনগর গ্রামের কিছু সাহসী যুবক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ধ্রুবর মরদেহ নিয়ে এসে সমাধিস্থ করেন গ্রামের কবরের এক পাশে। পরদিন ৫ ডিসেম্বর সাব-সেক্টর কমান্ডার মাহবুবুর রব সাদীর নেতৃৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা পাক হানাদারদের পরাজিত করে নবীগঞ্জ শহরকে মুক্ত করেন।
দেশমাতৃকার বীর সন্তান ধ্রুবর সমাধিটি আজও সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, যা নবীগঞ্জ থানা সংলগ্ন নবীগঞ্জ-বানিয়াচং সড়কের পাশে রাজনগর গ্রামের কবরস্থানের একপাশে পড়ে আছে অযত্ন আর অবহেলায়। এমনকি তার পরিবারেরও কোন সন্ধান মেলেনি। তবে এতটুকু জানা গেছে যে, তিনি শ্রীমঙ্গলের কোন এক চা-বাগান শ্রমিকের সন্তান ছিলেন।
তবে আশার কথা, স্বাধীনতার ৫০ বছর পর নবীগঞ্জের সচেতন নাগরিক সমাজ এই শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার অবহেলিত সমাধি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিচ্ছে।
পাশাপাশি নবীগঞ্জবাসীর দাবি, বীর শহীদ ধ্রুবর সমাধি সংরক্ষণ, পরিবারের সন্ধান এবং প্রতিবছর তার শাহাদাৎ বার্ষিকী পালনে সরকার এগিয়ে আসুক।