সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রবীর চন্দ্র সরকারের সম্মানি ভাতার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার ও দোয়ারাবাজার উপজেলার আলাউদ্দিন রাজাকারের নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকা হতে বাতিলের দাবিতে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন করা হয়েছে।
রবিবার দুপুরে দোয়ারাবাজার উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের উদ্যোগে সুনামগঞ্জ শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
পরে জেল রোডে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্যে দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিছ আলী বীর প্রতিক জানান, উপজেলার বীরসিং গ্রামের মৃত গোলাম ফকিরের ছেলে কুখ্যাত আলাউদ্দিন রাজাকার মুক্তিযুদ্ধের পরে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনীতে যোগদান করে; কিন্তু এলাকার কেউ টেরই পাননি।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, এই আলাউদ্দিন রাজাকার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২০১২ সালের ১৪ আগস্ট ইস্যুকৃত সাময়িক মুক্তিযোদ্ধা সনদ প্রাপ্ত হলে মুক্তিযোদ্ধারা বিক্ষুব্ধ হন।
মুক্তিযোদ্ধারা জানান, আলাউদ্দিন ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পক্ষ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা, নারী ধর্ষণ ও লুণ্ঠনের মতো জঘন্য অপরাধ করে।
অন্যদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রবীর চন্দ্র সরকার এই আলাউদ্দিন রাজাকারের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিলের দাবি জানানোর কারণে গত তিনমাস ধরে তার সম্মানি ভাতা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
পরে জেলা প্রশাসক মো জাহাঙ্গীর হোসেনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল মোমেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ, দোয়ারাবাজার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো সফর আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা বিনোদ রঞ্জন তালুকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা আব্দুর রশিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা পিযুস রঞ্জন চক্রবর্তী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারেক ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান জহির আহমেদ সোহেল।