জমি দখলে জামায়াত নেতার পক্ষে গণভবনের নির্দেশ থাকার দাবি

প্রকাশিত October 21, 2022
জমি দখলে জামায়াত নেতার পক্ষে গণভবনের নির্দেশ থাকার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতা সামসুল ইসলাম আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ও গণভবনের নির্দেশের অপপ্রচার চালিয়ে নিজের চাচাতো ভাইদের ২৪ শতক জমি দখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে মামলা দিয়ে ও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ইউনিয়নের দেওয়ানেরচক গ্রামের মৃত জমির উদ্দিনের ছেলে মো ফখর উদ্দিন এ অভিযোগ করেছেন।
তিনি জানান, তার বাবার চাচাতো ভাই কুটি মিয়ার ছেলে উমেদ আলী। তার বড়ছেলে সামসুল ইসলাম তার দুই ভগ্নিপতি একই গ্রামের মোফাজ্জল আলীর ছেলে মাসুদ আহমদ ও মেজরটিলার মুকিরপাড়ার মৃত বশির উদ্দিনের ছেলে নূর উদ্দিন ও তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের নিয়ে তাদের ২৪ শতক ভূমি জোর করে দখল করে নিয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, উমেদ আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম যুক্তরাজ্য ও কামরুল ইসলাম ইতালি প্রবাসী। তাদের প্রচুর টাকা থাকায় ভূয়া দলিল করে সামসুল ইসলাম দীর্ঘদিন থেকে তাদের জমি গ্রাস করতে হুমকি ও মিথ্যা অভিযোগে মামলা দায়ের করে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করছিলেন। এমনকি গত ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসীদের নিয়ে তাদের জমিতে পাকা খুঁটি বসাতে শুরু করেন। এ ব্যাপারে শাহপরাণ থানায় তিনি একটি সাধারণ ডায়রি ও পরদিন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত স্থিতাবস্থা জারি করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরাণ থানার এসআই মো সাইফুল ইসলাম ২ নভেম্বর পর্যন্ত ১৪৫ ধারা অনুযায়ী উভয়পক্ষকে স্বস্ব অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেন।
এ অবস্থায় সামসুল ইসলাম মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তার ভগ্নিপতি মাসুদ আহমদকে দিয়ে তিনি ও তার ভাগ্নে শামীমের বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজির মামলা দেন বলে অভিযোগ করে মো ফখর উদ্দিন জানান, মামলায় ১৭ অক্টোবর তারা জামিন পান; কিন্তু সেদিনই সামসুল ইসলামরা ৫০/৬০ জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে তাদের জমি দখল করতে শুরু করেন। তারা পাকা খুঁটি বসাতে শুরু করলে তারা থানায় ছুটে যান; কিন্তু কোনো প্রতিকার পাননি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন অনেক দেরিতে। ইতোপূর্বে সন্ত্রাসীরা সটকে পড়ে। তারা ১৮ ও ১৯ অক্টোবরও তাদের দখলবাজী চালিয়ে যায়। তার ১৯ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দের। ২০ অক্টোবর সকালে তারা বাধা দিতে গেলে তাদের উপর হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন আহতও হন। উল্টো তারা থানায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে পুলিশ তার কাজের ছেলেকে ধরে নিয়ে যায়।
তিনি জানান, মাসুদ আহমদ বলে বেড়াচ্ছে গণভবনের নির্দেশে তারা এই জমির দখল নিচ্ছেন। শাহপরাণ থানার ওসিও জানিয়ে দিয়েছেন, তার কিছু করার নেই। কারণ গণভবনের নির্দেশ আছে।
সংবাদ সম্মেলনে মো ফখর উদ্দিন প্রশ্ন রাখেন, জামায়াতে ইসলামী নেতা সামসুল ইসলামের পক্ষে গণভবনের কি নির্দেশ থাকতে পারে।
তিনি সরকারের কাছে সম্পদ ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছেন।