জকিগঞ্জে সরকারি দুই বিদ্যালয়ে অবিশ্বাস্য রকমের শিক্ষক শূন্যতা

প্রকাশিত September 26, 2025
জকিগঞ্জে সরকারি দুই বিদ্যালয়ে অবিশ্বাস্য রকমের শিক্ষক শূন্যতা

শ্রীকান্ত পাল, জকিগঞ্জ : অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য যে, সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় দু’টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটিতে প্রায় সাড়ে ৫০০ শিক্ষার্থীর জন্যে শিক্ষক আছেন মাত্র দু’জন। আরেকটিতে শিক্ষার্থী ৭ শতাধিক; কিন্তু শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৯ জন। তারওপর প্রধান শিক্ষক আর সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদও শূন্য পড়ে আছে।
১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত জকিগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৫৪৯ জন। খাতাপত্রে সহকারী শিক্ষকের ৯টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র দু’জন। একজন সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের আর অপরজন ইসলাম ধর্ম বিষয়ের। এমনকি প্রধান শিক্ষকের পদটিও খালি আছে প্রায় ৩ বছর থেকে। ফলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চরম হুমকির মুখে আছে। পাশাপাশি অভিভাবকরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। ।
একইভাবে ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত জকিগঞ্জ সরকারি (বালক) উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ শতাধিক শিক্ষার্থীর বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৯ জন শিক্ষক। এর মধ্যে দু’জন রয়েছেন বিএড প্রশিক্ষণে। প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য হয় ২০১৬ সালে। পাশাপাশি খালি হয়ে আছে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদটি। গণিত বিষয়ে শিক্ষকের ৩টি পদ থাকলেও আছেন মাত্র একজন। তিনিও বদলীর অপেক্ষায় আছেন। ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষকের ৪টি পদের বিপরীতে আছেন মাত্র একজন। বিজ্ঞান বিষয়ের কোন শিক্ষক নেই। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষকের মোট পদ ২৬টি; কিন্তু ১৬টিই খালি থাকায় পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
জকিগঞ্জ সরকারি (বালক) বিদ্যালয়ের দায়িত্বরত প্রধান শিক্ষকও কর্মস্থলে অবস্থান করেন না। তিনি তার পরিবার-পরিজন নিয়ে অবস্থান করেন সিলেট মহানগরীতে। তার ছেলে-মেয়েরাও লেখাপড়া করে সেখানে। তিনি মাঝে মধ্যে আসেন বলে অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন।
এখানে ১০টি শাখা থাকলেও শিক্ষক সল্পতার কারণে একত্রে গাদাগাদি করে পাঠদান কার্যক্রম চলছে। ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ১৭০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৮৩ জন। পাশের হার মাত্র ৪৮%। এ নিয়ে অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
অভিভাবক মুনিম আহমদ তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, এভাবে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না।
কেছরী গ্রামের শাহীন আহমদ জানান, জকিগঞ্জ সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত তার দুই মেয়ে সরকারি বৃত্তিপ্রাপ্ত; কিন্তু শিক্ষক না থাকায় তারা ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছে।
অভিভাবক আব্দুস শাকুর বলেন, শিক্ষক না থাকায় ক্লাস কার্যক্রমে চরম ব্যাঘাত ঘটছে। নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যায়না।
এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে শিক্ষক সংকট নিরসনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষক সংকট নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে তারা জকিগঞ্জবাসীকে নিয়ে আন্দোলনের হুশিয়ারি দিয়েছেন।
জকিগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন, স্থলাবিশিক্ত কাউকে না দিয়ে শিক্ষক বদলীর কারণেই এতগুলো পদ শূন্য রয়েছে। জকিগঞ্জ সরকারি (বালক) উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন বলেন, শিক্ষক স্বল্পতার কারণে নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা করতে কষ্ট হচ্ছে। নিয়মিত ক্লাস নিতে গিয়ে শিক্ষকরা অমানুষিক পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন বলে জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুই সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান বলেন, শিক্ষক সল্পতার বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।