নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় একজনের সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে তাকে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ করা হয়েছে।
শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর (২৯ ভাদ্র) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের ফতেগঞ্জ গ্রামের নূর উদ্দিনের ছেলে মো রাসেল রবি এ অভিযোগ করেন।
তিনি জানান, জায়গা জমি নিয়ে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে বিরোধ থাকায় তিনি পার্শ্ববর্তী গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা গ্রামের মৃত নওয়াব আলীর ছেলে নজরুল ইসলামের সাহায্য চেয়েছিলেন। তাকে নিয়োগ করেছিলেন আমমোক্তার। বাঘা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুছ ছামাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় তিনিও সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন; কিন্তু পরে তারাই ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন এবং জাল দলিল তৈরি করে তার সম্পত্তি তারা দখল করে নেন। এই দখলের সঙ্গে আরও জড়িত ছিলেন, বাঘার আব্দুস সোবহানের ছেলে জাকির হোসেন, লাল মিয়ার ছেলে এম এ জামান, আব্দুল মান্নানের ছেলে আব্দুশ শাকুর ও আব্দুছ ছামাদের স্ত্রী রুমেনা বেগম। তার পিতা এই ৬ জনের বিরুদ্ধে সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করলে আদালতের নির্দেশে পিবিআই তদন্ত শেষে ৩০ জুলাই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
রাসেল রবির অভিযোগ, এ কারণেই গত ৪ আগস্ট গোলাপগঞ্জ চৌমোহনায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় ১০ সেপ্টেম্বর গোলাপগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দাড়িপাতন খান ভিলার মো মাসুক উদ্দিনের দায়েরকৃত মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে।
জাকির হোসেন ও এম এ জামানকে তার পিতার দায়ের করা মামলা থেকে অব্যাহতি ও সম্পত্তির ভাগ না দিলে শতশত মামলায় তাকে ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে আমমোক্তার নজরুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাসেল রবির পিতাই তাকে একাধিক দাগে কিছু সম্পত্তি লিখে দিয়েছেন।
অপর অভিযুক্ত মাসুক উদ্দিন জানান, রাসেল রবি নামে কাউকে তিনি চিনেন না। মামলা থেকে নিরীহ মানুষকে অবশ্যই অব্যাহতি দেওয়া হবে।
আব্দুস শাকুর ও জাকির হোসেনকে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে সংযোগ পাওয়া যায়নি।