নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার (২ মে/১৯ বৈশাখ) সিলেট সফর করেন। এই সফরকালে দুর্যোপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটান সরকার প্রধান। বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার ও জনপ্রত্যাশা পূরণে উদ্বোধন করেন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প। এর মধ্য দিয়ে সিলেটবাসীর সামনে নতুন করে আশার আলো প্রজ্জ্বলিত করলেন।
এছাড়াও তিনি সিলেট থেকে জাতীয় পর্যায়ে শিশুদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘নতুনকুঁড়ি স্পোর্টস’ উদ্বোধন করেন।
সকাল ১০টার দিকে সহধর্মিণী ডা জুবাইদা রহমানসহ ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন তারেক রহমান। সেখান থেকে যান হজরত শাহজালাল (র) মাজার জিয়ারতে। জিয়ারত শেষে মহানগরীর চাঁদনিঘাটে সুরমা নদীর উভয় পারের সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। পরে সিলেট সিটি করপোরেশন-সিসিকি আয়োজিত সুধী সমাবেশ ভাষণ দেন।
সুধী সমাবেশ সভাপতিত্ব করেন, সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। আরো বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম, কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গৌছ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার।
সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার সিলেট-ঢাকা রেল ও সড়ক যোগাযোগ উন্নত করতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে তা শেষও করা হবে। তখন সিলেট-ঢাকা যাতায়াতে মানুষকে এত কষ্ট করতে হবে না।
তিনি নিশ্চিত করেন, সিলেট-ঢাকা রেলপথে ‘ডাবল লাইন’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে কম খরচে যাতায়াত ছাড়াও ব্যবসায়ীরা কম খরচে ব্যবসায়িক মালামাল আনা-নেওয়া করতে পারবেন।
গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সরকার বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সচেতনতার মাধমে অসুস্থ মানুষের সংখ্যা কমিয়ে আনতে সারাদেশে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী। স্বাস্থ্যকর্মীরা সারাদেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে গিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক পরামর্শ দিবেন।
তারেক রহমান বলেন, সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের অধীনে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল দ্রুত চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যা পরবর্তীতে ১২’শ শয্যায় উন্নীত করা হবে। সিলেটে শিল্প-কারখানা আরো সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি আইটি খাতেও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
সিলেটের জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে সরকার প্রধান মানুষকে সচেতন করতে সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, প্রতিটি সিটি করপোরেশন নিজস্ব এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করার উদ্যোগ নিলে সহজেই পলিথিন সমস্যার সমাধান হবে।
সুধী সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি চলে যান সিলেট সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জে। সেখানে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে বাসিয়া খাল পুনঃখনন কাজ উদ্বেধেন করেন।
এসময় উপস্থিত এলাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খাল খনন করেছিলেন। এরপর আবার এই খাল চলতে চলতে এখন বন্ধ হয়ে গেছে। তাই আবার কাটতে হচ্ছে। এই খাল কাটা হলে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক প্রথমত সরাসরি উপকার পাবেন। এর বাইরে দেড় লাখ কৃষক পরোক্ষভাবে উপকৃত হবেন। ফলে প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন ফসল বেশি উৎপাদন হবে।
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর পরবর্তী কর্মসূচি ছিল সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুনকুঁড়ি স্পোর্টস’উদ্বোধন। জাতীয় পর্যায়ের শিশুদের এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করে তিনি বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিভাবান শিশুদের খুঁজে বের করতে ‘নতুন কুঁড়ি’চালু করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে সারা দেশ থেকে প্রতিভাবান খুদে খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।” ‘
প্রধানমন্ত্রী একটি লাল বাটন চেপে ট্রফি ও লোগো উন্মোচনের মাধ্যমে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এ সময় তার পাশে ছিলেন।