মো আল জাবেদ সরকার : ‘জীবন ও জীবিকার প্রাধান্য, আগামীর বাংলাদেশ’ এই শিরোনামে প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। মন্ত্রিপরিষদ অনুমোদন দেওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে দেশের ১৫তম অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামাল এই বাজেট উপস্থাপন করেন।
অতিরিক্ত কর আরোপের কারণে এবারের বাজেটে তামাকজাত পণ্যের দাম বাড়বে। সিগারেটের চারটি স্তরের মধ্যে তিনটি স্তরের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। একটি স্তরের দাম অপরিবর্তিত থাকছে। প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম ও শুল্ক অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। সিগারেটের নিম্নস্তরের ১০ শলাকার দাম ৩৯ টাকা ও তদূর্ধ্ব এবং সম্পূরক শুল্ক ৫৭ শতাংশ ধার্যের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া মধ্যম স্তরের ১০ শলাকার দাম ৬৩ টাকা ও তদূর্ধ্ব, উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার দাম ১০২ টাকা ও তদূর্ধ্ব, অতি উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার দাম ১৩৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব। এই তিনটি স্তরের সম্পূরক শুল্ক ৬৫ শতাংশ নির্ধারণ করার জন্যে অর্থমন্ত্রী প্রস্তাব করেন।
তামাকবিরোধীদের দাবি অনুযায়ী মূল্য স্তরভিত্তিক সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ না করায় সরকার অতিরিক্ত ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে। অন্যদিকে তামাক কোম্পানিগুলোর আয় বাড়বে এবং তারা তামাকপণ্য বিক্রিতে আরো উৎসাহিত হবে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক ও উদ্বেগজনক।
অন্যান্য কর প্রস্তাবগুলোর মধ্যে, চুষে খাওয়ার তামাক, ধোঁয়াবিহীন তামাক বা অন্য সব তামাক প্রস্তুতকারক কোম্পানির ন্যূনতম কর অপরিবর্তিত থাকবে। যেমন জর্দা ও গুলসহ অন্যান্য তামাকপণ্যের কোম্পানির বিদ্যমান ৪৫ শতাংশ করপোরেট কর বহাল রাখার পাশাপাশি সকল প্রকার তামাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারী করদাতার ব্যবসায় থেকে অর্জিত আয়ের উপর বিদ্যমান ২.৫% সারচার্জ বহাল রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এতে করে আশঙ্কাজনক হারে তামাকপণ্যের ব্যবহার বেড়ে যেতে পারে।
প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় বেসরকারি সংস্থা ডর্প তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের উপ নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জোবায়ের হাসান বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে তামাক কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক সুবিধার একটি বহিঃপ্রকাশ হয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশের কিশোর ও যুবসমাজ তামাক সেবনে নিরুৎসাহিত হবে না। ফলে দরিদ্র পরিবারগুলো আরো দরিদ্র অবস্থায় পৌঁছে যাবে। তাতে চিকিৎসা ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের উন্নয়নের জন্য এক বিরাট হুমকি হয়ে দেখা দিবে।
মোহাম্মদ জোবায়ের হাসান আরো বলেন, তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর কর ও দাম প্রস্তাবের কোন প্রতিফলন নেই প্রস্তাবিত বাজেট। তবে আশা করছি, সরকার গুরুত্বসহকারে বিষয়গুলো ভেবে দেখবে এবং তামাক কর বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
লেখক : মিডিয়া এন্ড অ্যাডভোকেসি কোঅর্ডিনেটর, ডেভেলপমেন্ট অর্গেনাইজেশন অব দ্য রুর্যাল পুওর-ডরপ।