শস্য দেবতাকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দুর্গম পাহাড় চূড়ায় ওয়ানগালা উৎসব

প্রকাশিত November 14, 2016
শস্য দেবতাকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দুর্গম পাহাড় চূড়ায় ওয়ানগালা উৎসব

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : ‘মিসি সালজং’ বা শস্য দেবতার উপর নির্ভর করলে ভালো ফলন হয়-এটা গারো সম্প্রদায়ের বিশ্বাস। তাই শস্য দেবতাকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ও নতুন ফসল খাওয়ার অনুমতি চেয়ে মৌলভীবাজারে গারো সম্প্রদায় এ বছরের ‘ওয়ানগালা’ অর্থাৎ নবান্ন উৎসব উদযাপন করেছে।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার হরিণছড়ায় গারো সম্প্রদায়ের লোকজন আলোচনা ও নাচ-গানের মাধ্যমে রবিবার ঐতিহ্যবাহী এ উৎসব উদযাপন করেন।
নতুন ফসল তোলার পরে নকমা অর্থাৎ গ্রাম প্রধান সবার সঙ্গে আলোচনা করে অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারণ করেন।
দেবতাদের পূজার মাধ্যমে উৎসব শুরু হয়। এতে ‘আমুয়া’ ও ‘রুগালা’ ধর্মীয় আচার পালন করার পর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে নিজস্ব ভাষায় গান গেয়ে শোনান গারো শিল্পীরা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল এই সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী জুম নাচ।
ওয়ানগালা একই সঙ্গে ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব। এ উৎসব পাহাড়ি জুম চাষকে কেন্দ্র করে উদযাপিত হয়ে থাকে।
এই উৎসব বরণে ছোট, বড়, ধনী, গরীব সবাই মেতে উঠে প্রাণের উচ্ছ্বাসে। গারো সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে চিরাচরিত প্রথায় একে অন্যের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় সহ গারো ভাষায় গান আর নাচ পরিবেশন করে। তালে তালে চলে নানান বাদ্যযন্ত্র। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে অনেকে উৎসব উপভোগ করেন।