শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে শ্রম পরিদর্শকদের পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে হবে।
তিনি আরো বলেছেন, কলকারখানায় কাঠামোগত, বৈদ্যুতিক ও অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর পরিদর্শন জোরদার করতে হবে।
শনিবার (১০ অক্টোবর/২৫ আশ্বিন) সিলেটে রোজ ভিউ হোটেলে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর- ডিআইএফইর শ্রম পরিদর্শকদের জন্য লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং কাঠামোগত, বৈদ্যুতিক ও অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণে মন্ত্রী প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন।
তিনি বলেন, অনেক কারখানায় অগ্নিনির্গমন পথের অভাব, বৈদ্যুতিক ত্রুটি ও অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ব্যবহারে প্রশিক্ষণের ঘাটতি রয়েছে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কারখানার শ্রমিকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর রাখতে হবে। পরিদর্শনের সময় কোনো কারখানায় লাইসেন্সের ঘাটতি বা নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের বিষয় নজরে এলে তা নথিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। দুর্ঘটনায় একজন দক্ষ শ্রমিকের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, দেশের অর্থনীতি এবং উৎপাদনশীলতার জন্যও বড় ক্ষতি।
তিনি বলেন, পরিদর্শকদের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের বাধা বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য হবেনা। কোনো কারখানা পরিদর্শনে বাধা দেওয়া হলে বা দায়িত্ব পালনে অসহযোগিতা করা হলে তা মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। দায়িত্ব পালনে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেওয়া কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করা হবে এবং পরিদর্শন কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্বহীনতা বরদাশত করা হবেনা।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার। শ্রমিকের মর্যাদা রক্ষা, আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, আইএলও কনভেনশন ১৫৫, ১৮৭ ও ১৯০ বাস্তবায়নের উদ্যোগ জোরদার করার পাশাপাশি সময়োপযোগী শ্রম পরিদর্শন নীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নেও গুরুত্ব দিতে হবে।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো ফরহাদ সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো শামসুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা-আইএলও বাংলাদেশের টেকনিক্যাল অফিসার ওলে জাস্টেনসেন ও সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূর। এ সময় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং ডিআইএফইর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পিআইডি সিলেট