ইয়ুথ অ্যাকশন : ইমপ্রুভমেন্ট ক্লাইমেট ফাইন্যান্স ইফিকেসি ইন বাংলাদেশ বিষয়ক জাতীয় পর্যায়ের সংলাপে বক্তারা বলেছেন, জলবায়ু সংকটের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় অন্যতম বড় বাঁধা হচ্ছে পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব। জলবায়ু প্রাপ্তির পাশাপাশি অর্থের যথার্থ ব্যবহার সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ। জলবায়ু সুবিচার প্রতিষ্ঠায় অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিতে তরুণদের সঙ্গে সংসদ সদস্যদের নেটওর্য়াক ক্লাইমেট পার্লামেন্ট বাংলাদেশ এক হয়ে কাজ করবে।
শনিবার রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে ক্লাইমেট পার্লামেন্ট, প্রতীকি যুব সংসদ, ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস ও আর্থ সোসাইটি ক্লাইমেট ফাইন্যান্স প্রকল্পের আওতায় ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রকাশ কর্মসূচির সহায়তায় যৌথভাবে এই সংলাপের আয়োজন করে।
ক্লাইমেট পার্লামেন্ট বাংলাদেশের আহবায়ক সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে এতে উপস্থিত ছিলেন, সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারি ও আহসান আদেলুর রহমান আদেল এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রকাশ কর্মসূচির টিম লিডার জেরি ফক্স, আইবিপি ম্যানেজার-ক্লাইমেট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ক্লাইমেট ইন্ডিউসড মাইগ্রেশন আবুল বাশার, একশনএইড বাংলাদেশের ম্যানেজার-ইয়াং পিপল নাজমুল আহসান, ইউরোপিয়ান ক্লাইমেট ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি লিড মনোয়ার মোস্তফা প্রমুখ। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা চার জেলায় সংসদ সদস্য প্রতিনিধিদলের অভিযোজন ও প্রশমন সংক্রান্ত প্রকল্প পরির্দশন এবং যুব নেতৃত্বের সামাজিক নিরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত নিয়ে তথ্যপত্র উপস্থাপন করেন, ক্লাইমেট পার্লামেন্ট বাংলাদেশের সচিবালয় আর্থ সোসাইটির প্রকল্প সমন্বয়কারী মাইশা নওশীন এবং প্রতীকি যুব সংসদের নির্বাহী প্রধান, ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের সমন্বয়কারী সোহানুর রহমান।
সংলাপে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত তরুণ প্রতিনিধিরা তাদের অভিজ্ঞতা জাতীয় সংসদ সদস্যদের সামনে তুলে ধরে। এসময় তরুণরা জলবায়ু সংক্রান্ত প্রকল্পে সরকারি মূল্যায়ন ও পরিবীক্ষণ প্রক্রিয়ায় তরুণদের মতামত গ্রহণের দাবি জানান। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাদের চাহিদাগুলো পূরণ হয়েছে কিনা, প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে তাদের যে অবস্থা ছিল, বাস্তবায়নের পরে তা পরিবর্তন হয়েছে কিনা-তা নিশ্চিত করা যাবে বলে তরুণরা আশা প্রকাশ করেন।
ক্লাইমেট পার্লামেন্ট বাংলাদেশের আহবায়ক সাংসদ নাহিম রাজ্জাক বলেন, সংসদ সদস্যদের জলবায়ু নেটওর্য়াক তৃণমূলে জলবায়ু প্রকল্পে পরিবীক্ষণে যুক্ত করা এবং জাতীয় পর্যায়ে নীতি সংস্কারে একসঙ্গে কাজ করবে। তরুণদের সঙ্গে যৌথ মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন সংসদ সদস্যদের চোখ খুলে দিয়েছে। স্থানীয় মানুষ ও অংশীজন এবং প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে পরিদর্শন লব্ধ অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনের পাশাপাশি আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে তৃণমূলের কণ্ঠস্বর তুলে ধরা হবে। এ সম্মেলনে (কপ২৬) বাংলাদেশের সমস্যা তুলে ধরে জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সুবিচার আদায়ের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে।
ক্লাইমেট পার্লামেন্ট বাংলাদেশের সদস্য সাংসদ ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অভিবাসন বাড়ছে। মানুষজন বাড়িঘর ছেড়ে শহরে পাড়ি জমাচ্ছে। দুর্গম চর এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকার মানোন্নয়নে চর উন্নয়ন বোর্ড গঠনের জন্য প্রস্তাবনা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে প্রেরণ করা হবে।
ক্লাইমেট পার্লামেন্ট বাংলাদেশের সদস্য সাংসদ মীর মোস্তাক আহমেদ রবি বলেন, সাতক্ষীরাসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের দাবি টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং সুপেয় পানি নিশ্চিত করা। এ কারণে জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে ধনী দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত সহায়তা প্রয়োজন।
ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রকাশ কর্মসূচির টিম লিডার জেরি ফক্স বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্বের রোল মডেল। ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে জলবায়ু সুবিচার প্রতিষ্ঠায় প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করতে হবে। যেভাবে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তরুণ সম্প্রদায় জলবায়ু সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হয়েছে তাতে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে একটি উদাহরণ হয়ে উঠবে।
ইউরোপিয়ান ক্লাইমেট ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি লিড মনোয়ার মোস্তফা বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তরকে প্রধান লক্ষ্য বিবেচনা করে বাংলাদেশকে অগ্রসর হতে হবে। বিভিন্ন গবেষণা বলছে, বায়ু ও সোলার থেকে ৫০ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদন সম্ভব। এ কারণেই নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে পথের বিদ্যমান বাঁধা দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে।
একশনএইড বাংলাদেশের ম্যানেজার-ইয়াং পিপল নাজমুল আহসান জলবায়ু জনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় বৈশ্বিক তহবিল গঠনের পাশাপাশি উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
প্রসঙ্গত, ক্লাইমেট পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধি দল ২ অক্টোবর থেকে ৩ অক্টোবর জলবায়ু সংকটপ্রবণ জেলা সাতক্ষীরা ও খুলনা এবং ৬ অক্টোবর থেকে ৭ অক্টোবর গাইবান্ধা ও নীলফামারী পরির্দশন করেন।-সংবাদ বিজ্ঞপ্তি