দিরাই প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের রণভূমি গ্রামে জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১৮ জন গুলিবিদ্ধ সহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
রবিবার (৯মার্চ/২৪ ফাল্গুন) সকাল ১০টার দিকে সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান চৌধুরী ও সাবেক ইউপি মেম্বার আব্দুস সালামের পক্ষ এবং একই গ্রামের আশিক মিয়া ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিক চৌধুরীর পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় গুলির শব্দও পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আহত মাদরাসা ছাত্র মুন্না মিয়া (১৫) ও বিজয় ইসলাম (১৪) এবং আমিরুল (২৪), মোজ্জাকির (৪২), তোফায়েল মিয়া (৩৮), মহরম মিয়া (৬০), ছাতির মিয়া (৬৫), মাসুম আহমেদ (২০), জাহিদ আলম (২৬), জয় ইসলাম (২০), শাকিবুল (১২), পাবেল মিয়া (৪২), শাহরুখ খান (২১), মো মোজাহিদ (২৩) শাহআলম মিয়া (৭০), বারেক চৌধুরী রুবেল (৪০), টিপু মিয়া (২৬) ও আব্দুস সাত্তার (৫০) সহ ১৮ জনকে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
দিরাই হাসপাতালের কর্তব্যরত মেডিক্যাল অফিসার ডা পিন্টু দাস জানান, আহতদের শরীরে গুলির আলামত পাওয়া গেছে-তবে এক্সরে করার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ ও গ্রামবাসীর সূত্রে জানা গেছে, রণভূমি গ্রামের লুৎফুর রহমান চৌধুরী ও আব্দুস সালাম এং আশিক মিয়ার মধ্যে স্কুল, মাদরাসা, মসজিদ ও জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। আশিক মিয়ার ভাই যুক্তরাজ্য প্রবাসী রাসিকুল ইসলাম গ্রামের পাশে জায়গা ক্রয় করে স্কুল নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এতে বাঁধা দেন লুৎফর রহমান ও আব্দুস সালামের লোকজন। এর জের ধরে দুই দিন আগে আশিক মিয়ার ভাই মনসুর মিয়ার উপর প্রতিপক্ষের লোকজন দিরাই বাজারে হামলা চালায়। এর জের ধরে সংঘর্ষ হয়েছে।
দিরাই থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানান, সংঘর্ষের পর পুরো গ্রাম পুরুষশূন্য। জড়িতদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।