নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিক্যাল এসোসিয়েশন-বিডিএমএ, বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিক্যাল প্রাইভেট প্র্যাক্টিশনার এসোসিয়েশন-বিডিএমপিপিএ ও সাধারণ ম্যাটস্ শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদ অবিলম্বে শূন্যপদে নিয়োগ সহ ৪ দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
শনিবার (৮ মার্চ/২৩ ফাল্গুন) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ডা প্রদীপ কুমার দাস, সিলেট জেলা সভাপতি ডা পবিত্র রঞ্জন বনিক, সহসভাপতি ডা হেলাল উদ্দিন ও বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিক্যাল প্রাইভেট প্র্যাক্টিশনার এসোসিয়েশন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা সিব্বির আহমদ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২২ ও বিএমএন্ডডিসির সর্বশেষ তথ্য মতে, দেশে বর্তমানে ডিপ্লোমা মেডিক্যাল শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার ও বিএমডিসি নিবন্ধিত ডিএমএফ সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুযায়ী, প্রায় ৫ হাজার ৫০০ ডিপ্লোমা চিকিৎসকগণ (ডিএমএফ) উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার পদে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র সহ জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত আছেন। বর্তমানে ডিএমএফ কোর্স সম্পন্নকারী প্রায় ৫০ হাজার দক্ষ জনবল কর্মসংস্থানহীন বেকার হয়ে পড়েছে; কিন্তু স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরেও ম্যাটস্ শিক্ষার্থীরা বিভিন্নভাবে জুলুম ও বৈষম্যের শিকার। দীর্ঘকাল আন্দোলন-সংগ্রাম করার পরেও এই বৈষম্য নিরসনের কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না।
আরো জানানো হয়, শূন্য পদ থাকার পরেও গত একযুগের বেশি সময় ধরেই নিয়োগ বন্ধ। এর মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রায় ২ হাজার ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে প্রায় ১ হাজার শূন্য পদের ছাড়পত্র প্রদান করলেও নিয়োগ নিয়ে টালবাহানা করে হচ্ছে। এতে একদিকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অন্যদিকে ম্যাটস্ থেকে পাশ করা বেকারের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে দীর্ঘদিন ধরে তাদের সাথে চলমান বৈষম্যগুলো নিরসনে ৪টি দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো : শূন্য পদে নিয়োগ, কমিউনিটি ক্লিনিক সহ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে নতুন পদ সৃজন, প্রতিষ্ঠান ও কোর্সের নাম পরিবর্তন করে অসংগতিপূর্ণ কোর্স কারিকুলাম সংশোধন করে ইন্টার্নশিপে লগবুক প্রণয়ন ও বিএমডিসি স্বীকৃত ক্লিনিক্যাল বিষয়ে উচ্চশিক্ষার অধিকার প্রদান।
এছাড়া প্রস্তাবিত এলাইড হেলথ প্রফেশনাল বোর্ড খসড়া আইনের নাম পরিবর্তন করে ‘মেডিক্যাল এডুকেশন বোর্ড অব বাংলাদেশ’ নামকরণ সহ প্রস্তাবিত ধারায় সংশোধনীসহ বাস্তবায়ন করার দাবি সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে হুশিয়ারি দেওয়া হয়, দাবিগুলো মানা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।