সিলেটবাসী আগের মতো এখনও বৈষম্যের শিকার : আরিফুল হক চৌধুরী

No Image Available
  • আপডেট টাইম : February 24 2025, 16:17
  • 41 বার পঠিত
সিলেটবাসী আগের মতো এখনও বৈষম্যের শিকার : আরিফুল হক চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুৎ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের মতো বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও সিলেটবাসী বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।।
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি/৪ ফাল্গুন) বিকেলে সিলেট মহানগরীর কুমারপাড়ায় ব্যক্তিগত কার্যালয়ে আহুত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।।
বৈষম্যের উদাহরণ তুলে ধরে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের কাজ আটকে আছে।
এই মহাসড়কের জমি অধিগ্রহণে ১৭ বছরেও যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়ায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বিলম্বের কারণ জনগণের সামনে প্রকাশ করার দাবি জানান।
ঢাকা-সিলেট সড়ক লালাবাজার থেকে জাফলংয়ের দিকে নেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তুলে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সড়কটি লালাবাজার থেকে হুমায়ুন রশীদ চত্বর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করে ‘রিভার্স’ করা হলে যানজট কমবে।
তিনি বলেন, আম্বরখানা-বিমানবন্দর সড়ক নিয়ে কখনো বলা হয়েছে ছয় লেন আবার কখনো বলা হয়েছে চার লেন। প্রকল্পটি একনেকে প্রেরণ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তা মাঠ পর্যায়ে প্রেরণ করা হয়। এর উদ্দেশ্য, প্রকল্পটি যেন অর্থবছর থেকে বাদ পড়ে যায়। অথচ দেশের অন্য সব জায়গায় বিমানবন্দরের সড়ক ছয় লেন ও চার লেন হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রকল্পে ১৭টি এলএ প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে ১১টি আর ৬টি নোটিশ করা হয়েছে। সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক প্রকল্পে ৩০টি এলএ প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে মন্ত্রণালয়ে ৭টির প্রস্তাব করা হলেও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে ৩টি; কিন্তু কোনো নোটিশ প্রদান করা হয়নি।
আরিফুল হক চৌধুরী উল্লেখ করেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র প্রদানে বিলম্বের কারণে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে না। অন্যদিকে দিন দিন নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।
লাক্কাতুড়া থেকে বিমানবন্দর সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ ও সিলেট-সুতারকান্দি সড়ক প্রকল্পের ছাড়পত্র পরিবেশ অধিদপ্তর এখনো দেয়নি জানিয়ে তিনি জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের পূর্বে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র প্রদান সহজীকরণের দাবি জানান।
তিনি বলেন, সিলেটে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা, বিদ্যমান সড়কসমূহ রক্ষায় পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ, প্রয়োজনীয় বাজেট প্রদান ও সমন্বয় সাধন করতে হবে। আগামী বর্ষা মৌসুমে বন্যার পূর্বাভাস রয়েছে। এ ব্যাপারে এখনই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
সাবেক মেয়র বলেন, সিলেট পর্যটনসমৃদ্ধ জেলা; কিন্তু এখানকার সড়কগুলো মোটেও মানসম্মত নয়। ভোলাগঞ্জ-সাদাপাথর থেকে পাহাড় ঘেঁষে তামাবিল-জাফলং পর্যন্ত একটি পর্যটন সড়ক করা হলে পর্যটক বিপুল সংখ্যায় বৃদ্ধি পেতো; কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, সিলেট প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা। এখানে একেক বিমানের ভাড়া একেক রকম। এ আরেক বৈষম্য। একই দেশে দুই নীতি হতে পারে না।
সিলেটে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রসঙ্গে আরিফুল হক চৌধুরী জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা বরাবর তিনি একটি আবেদন দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপদেষ্টা গত ৩০ অক্টোবর বিউবোর সচিব ও চেয়ারম্যানকে প্রতিবেদনসহ উপস্থাপন করতে বলেন; কিন্তু এখন পর্যন্ত এই প্রতিবেদনের কোনো খবর নেই।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর