সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনসম্পৃক্ততার সামাজিক দায়বদ্ধতা বিষয়ক সংলাপ

প্রকাশিত October 11, 2021
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনসম্পৃক্ততার সামাজিক দায়বদ্ধতা বিষয়ক সংলাপ

‘সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনসম্পৃক্ততার সামাজিক দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক দিনব্যাপি একটি কমিউনিটি সংলাপ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অনুষ্ঠিত হলো।
সোমবার আয়োজিত সংলাপের মূল প্রতিপাদ্য ছিল, ‘তথ্য অধিকার প্রয়োগ ও উদার মূল্যবোধ সম্পর্কে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সচেতন ও ক্ষমতায়ন করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা’। পাশাপাশি, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি-বেসরকারি সেবা প্রদানকারী সংস্থার প্রতিনিধিসহ সবার সামাজিক দায়বদ্ধতা, ভূমিকা ও সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সমন্বয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করা।
বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এন্ড কমিউনিকেশন-বিএনএনআরসি ফ্রেড্রিক নিওম্যান ফাউন্ডেশন-এফএনএফ বাংলাদেশের সহায়তায় কউিনিটি রেডিও সাগরগিরির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই কমিউনিটি সংলাপের আয়োজন করে।
এতে স্বাগত বক্তব্যে ফ্রেড্রিক নিউম্যান ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ওমর মোস্তাফিজ সংস্থার উদ্দেশ্য উপস্থাপন করেন।
সংলাপের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য আলোচনা করেন, বিএনএনআরসির সমন্বয়ক মার্ক মানস সাহা।
প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাহাদাত হোসেন বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনসম্পৃক্ততা ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
তিনি আরো বলেন, সবক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সরকারি, বেসরকারি ও সাধারণ মানুষের মিলিত উদ্যোগ ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। তাই যে কোন বিষয়ে সেবা পেতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে সরাসরি যেতে হবে।
বিশেষ অতিথি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা নূরউদ্দিন রাশেদ,বলেন, সীতাকুন্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন কোন মধ্যস্বত্বের দৌরাত্ম নেই। সেবাদানকারীর সংখ্যাও অনেক বেড়েছে। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে এখন স্বাস্থ্যসেবার তাৎক্ষণিক তথ্য পাওয়া যায়।
ব্যতিক্রমধর্মী এ সংলাপে প্যনেলিস্টরা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনসম্পৃক্ততা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা সংশ্লিষ্ট নিজ নিজ অবস্থান ও ভূমিকা আলোচনা করেন। অংশগ্রহণকারীরা সংশ্লিষ্ট প্যানেলিস্টদের কাছে সরাসরি প্রশ্ন করেন এবং প্যানেলিস্টরা প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তর প্রদান করেন।
অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের প্যানেলিস্টরা বলেন, তথ্য অধিকার আইন প্রণয়নের ফলে এখন মানুষ তথ্য চাইতে পারছে এবং সংশ্লিষ্টরা তথ্য দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে তাদের মধ্যে জবাবদিহিতাও তৈরি হচ্ছে।
তারা বিভিন্ন দপ্তর থেকে মানুষ যেন সহজেই সেবা পেতে পারেন সেজন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং এর সুফলের জন্য সকলকে এগিয়ে আসতে আহবান জানান।
স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, আইনজীবী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, মহিলা, এনজিও প্রতিনিধি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও হিজড়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও রেডিও কর্মীসহ মোট ৬০ জন সংলাপে অংশ নেন।
প্রাক্তন অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় সংলাপে প্যানেল আলোচক ছিলেন, উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার, নারী সংগঠক সুরাইয়া বাকের, সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা নাজমুন নাহার ও সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লিটন কুমার চৌধুরী।-সংবাদ বিজ্ঞপ্তি