শহীদ সাংবাদিক তুরাব হত্যামামলার দ্রুত বিচার দাবিতে ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের স্মারকলিপি

প্রকাশিত July 20, 2025
শহীদ সাংবাদিক তুরাব হত্যামামলার দ্রুত বিচার দাবিতে ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের স্মারকলিপি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে শহীদ সাংবাদিক এটিএম তুরাব হত্যামামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দ্রুত বিচারের দাবিতে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে।
রবিবার (২০ জুলাই/৫ শ্রাবণ) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদেরর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি নাজমুল কবীর পাভেল, সিনিয়র সহসভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন, সাধারণ সম্পাদক আশকার ইবনে আমীন লস্কর রাব্বী, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রেজা রুবেল, নির্বাহী সদস্য আজমল আলী, সাবেক কোষাধ্যক্ষ মাহমুদ হোসেন ও মালটিমিডিয়ার জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সিলেটের সদস্য সচিব এইচ এম শহীদুল ইসলাম।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ১৯ জুলাই বাদ জুমআ পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য মহানগরীর কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান করছিলেন সিলেট প্রেসক্লাব সদস্য, স্থানীয় দৈনিক জালালাবাদের ফটো সাংবাদিক এটিএম তুরাব। নামাজ শেষে তিনি অন্যান্য সহকর্মীর সঙ্গে একটি রাজনৈতিক দলের মিছিলের স্থিরচিত্র ও ভিডিওগ্রাফি করছিলেন। মিছিলটি পুরান লেন গলির মুখে পৌঁছার পর সশস্ত্র পুলিশ পেছন দিক থেকে গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে অনেকে এবং তুলতে থাকা এটিএম তুরাবও গুলিবিদ্ধ হন।
প্রসঙ্গত, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ইংরেজিতে বড় অক্ষরে ‘প্রেস’ লেখা ভেস্ট তুরাবের গায়ে ছিল। তা সত্ত্বেও পুলিশ তার দিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে।
গুলিবিদ্ধ তুরাব চিৎকার করে মাটিতে পড়ে গেলে অন্য সহকর্মীরা তাকে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় এবং তার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার শঙ্কায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মহানগরীর সোবহানীঘাট এলাকায় অবস্থিত ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৬টা ৪৪ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়না তদন্তে তার শরীরে ৯৮টি ছররা গুলির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে ফরেনসিক রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় গত বছরের ২৪ জুলাই সাংবাদিক এটিএম তুরাবের বড় ভাই আবুল হাসান মো আযরফ (জাবুর) এসএমপির কোতোয়ালি মডেল থানায় ৮-১০ জন পুলিশকে অভিযুক্ত করে এজাহার দাখিল করেন; কিন্তু কোতোয়ালি থানা পুলিশ সেটিকে মামলা হিসেবে গ্রহণ না করে জিডি হিসেবে নথিভুক্ত করে।
গত বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর ১৯ আগস্ট সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল মোমেনের আদালতে এটিএম তুরাব হত্যার ঘটনায় ফের মামলা দায়ের করেন সাংবাদিক এটিএম তুরাবের ভাই আবুল আহসান মো আযরফ (জাবুর)। মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ সহ ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আদালত শুনানি শেষে মামলাটি এফআইআর করার নির্দেশ দেন।
মামলায় ২ নম্বর আসামি এসএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (ক্রাইম উত্তর) মো সাদেক দস্তগীর কাউসার, ৩ নম্বর আসামি উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ ও ৪ নম্বর আসামি সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি) মিজানুর রহমান।
অন্য আসামিরা হলেন, সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ কল্লোল গোস্বামী, থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈন উদ্দিন, ওসি (তদন্ত) ফজলুর রহমান, এসআই কাজি রিপন সরকার, এসএমপির কনস্টেবল/২১৬৮ সেলিম মিয়া, কনস্টেবল/১৯৫৭ আজহার, কনস্টেবল/২২৫৫ ফিরোজ ও কনস্টেবল/১৬০৩ উজ্জ্বল।
বিগত সরকারের অন্যায়, জুলুম, নির্যাতন ও বিচারহীনতায় বাংলাদেশের মানুষ এতদিন আতঙ্কে-উৎকণ্ঠায় তটস্থ ছিল। মানুষ ন্যায়বিচার বঞ্চিত ছিল। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে দেশের বঞ্চিত-নিপীড়িত মানুষ আজ ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় অধীর আগ্রহে রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কারের মাধ্যমে মানুষ তার ন্যায়বিচার পাবে-শান্তিতে বসবাস করবে। একইসাথে আমরা আপনার মাধ্যমে আমাদের সহকর্মী হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচার দাবি করছি। পাশাপাশি মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারে আপনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কামনা করছি।-সংবাদ বিজ্ঞপ্তি