যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো আমিনুল হক বলেছেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ করে তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনা হবে।
তিনি আরো বলেছেন, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি ক্রীড়াবিদদের সামাজিক মর্যাদা, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর/২১ আশ্বিন) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে হোটেল গ্র্যান্ড সুলতানে সম্মিলিত ক্রীড়া পরিষদ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন।
তিনি বলেন, ক্রীড়াবিদদের পেশাগত স্বীকৃতি, ক্রীড়াভাতা ও ক্রীড়া কার্ড কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। ক্রীড়া কার্ডের মাধ্যমে ক্রীড়াবিদদের স্বাস্থ্যসেবা, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা, দুর্ঘটনা ও অসুস্থতার ক্ষেত্রে চিকিৎসা সহায়তা এবং জীবনবীমা সহ সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে একজন ক্রীড়াবিদ ও তার পরিবারকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির প্রথম আসরে সারাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক কিশোর-কিশোরী অংশগ্রহণ করেছে। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ বাছাই করা হয়েছে। নির্বাচিত ৩০৬ জন ক্রীড়াবিদকে বর্তমানে ৪০ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে নির্বাচিত প্রতিভাবানদের বিকেএসপিতে ভর্তি করে তাদের শিক্ষা ও খেলাধুলার ব্যয় সরকার বহন করবে। আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা থেকে সারাদেশের ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচির দ্বিতীয় আসর উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে এতে প্রায় ১৬ লাখ ২৩ হাজার ক্রীড়াবিদ অনলাইনে নিবন্ধন করেছে, যার প্রায় ৪২ শতাংশ কিশোরী।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ এবং জেলা স্টেডিয়ামগুলো আধুনিকায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলা স্টেডিয়ামে উন্নত ড্রেসিংরুম, গ্যালারি, প্রেস বক্স ও ইনডোর সুবিধা সংযোজন করা হবে। মৌলভীবাজার জেলাতেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্পোর্টস ভিলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শ্রীমঙ্গলে উপজেলা স্টেডিয়াম ও বিদ্যমান ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খেলাধুলাকে সারা বছর মাঠে রাখার লক্ষ্যে ৬৪টি জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে ফুটবল ও ক্রিকেট সহ বিভিন্ন ইভেন্টের লিগ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী জানুয়ারি থেকে এ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাদক, অপসংস্কৃতি ও প্রযুক্তির অপব্যবহার থেকে দূরে রেখে একটি সুস্থ ও সুশৃঙ্খল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
মতবিনিময় সভায় জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব ইজদানী ইমরানের সভাপতিত্বে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল, পুলিশ সুপার মো মনিরুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান মিজান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন, সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন ও সিনিয়র সদস্য আব্দুল মুকিত, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক সরফরাজ আহমেদ সরফু ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতি জাকির হোসেন উজ্জ্বল সহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রীড়াবিদরা উপস্থিত ছিলেন। পিআইডি সিলেট