পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার বলেছেন, পোভার্টি ম্যাপিংয়ের উদ্দেশ্য হচ্ছে, দেশের দরিদ্র অঞ্চলগুলোকে চিহ্নিত করে অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নের পথ সুগম করা; কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে জনগণের ভুল তথ্য প্রদান কিংবা তথ্য আড়াল করার প্রবণতার কারণে যে উদ্দেশ্যে এ ধরনের ম্যাপিং বা জরিপ করা হয় তা পুরোপুরি ফলপ্রসূ হয় না। তাই দেশের স্বার্থে সবারই উচিত সবসময় সঠিক তথ্য প্রদান করা।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই/৯ শ্রাবণ) সিলেটে অনুষ্ঠিত ‘ডিসেমিনেশন প্রোগ্রাম অন পোভার্টি ম্যাপ বাংলাদেশ ২০২২’ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির যৌথ উদ্যোগে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো রেজা-উন-নবী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এস এম শাকিল আখতার এবং বাংলাদেশ পুলিশের সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো মুশফেকুর রহমান। এছাড়াও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সহ বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকবৃন্দ এতে অংশগ্রহণ করেন। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সিলেট বিভাগীয় পরিসংখ্যান কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত যুগ্মপরিচালক মো ফিরোজ ইবনে ইউসুফ। পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয় তুলে ধরেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর পোভার্টি এন্ড লাইভলিহুড স্ট্যাটিসটিকস সেলের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা (উপপরিচালক) মহিউদ্দিন আহমেদ এমপিএইচ।
এতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জরিপ অনুযায়ী ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে সিলেট বিভাগের জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক দারিদ্র্যের হার উপস্থাপন করা হয়। এরপর মূল বিষয়ের উপর উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা দারিদ্র্য দূরীকরণে যথাযথ জরিপ ও বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে মতামত তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তা দেশের সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করার ব্যাপারে আলোকপাত করেন।
তারা বলেন, নির্দিষ্ট কোন জনগোষ্ঠী নয় বরং ধর্ম-বর্ণ-পেশা নির্বিশেষে সকল জনগোষ্ঠীর কথা ভাবতে হবে। রাষ্ট্রকে পদক্ষেপ নিতে হবে বৈষম্যহীন দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে সারা দেশে দারিদ্র্যের হার কমিয়ে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন করা তথা রাষ্ট্রের উন্নয়ন করা।
এ লক্ষ্যে সুষম ও বিজ্ঞানভিত্তিক জরিপের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।–পিআইডি সিলেট