সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-সিকৃবিতে সাদা দলের নামধারী শিক্ষকদের দ্বারা মব সৃষ্টির মাধ্যমে উপাচার্য প্রফেসর ড মো আলিমুল ইসলাম, প্রক্টর প্রফেসর ড জসিম উদ্দিন আহাম্মদ ও এম সাইফুর রহমান হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড শাহাদাৎ হোসেনসহ উপাচার্য সচিবালয়ে দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা কর্মীরা আহত হওয়ার প্রতিবাদে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী সোনালী দলের শিক্ষকরা শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি/৪ ফালগুন) সিকৃবির লাইব্রেরি ভবনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সোনালী দলের সভাপতি প্রফেসর ড এম রাশেদ হাসনাত। সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড মো মাছুদুর রহমানের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন সহসভাপতি প্রফেসর ড জসিম উদ্দিন আহাম্মদ, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড মো আসাদ-উদ-দৌলা, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফেসর ড মো রাশেদ আল মামুন, প্রচার সম্পাদক প্রফেসর ড মো সামিউল আহসান তালুকদার প্রমুখ।
তারা জানান, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে যে সকল ঘটনা ঘটিয়েছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। সুপরিকল্পিতভাবে ন্যাক্কারজনক কায়দায় মব সৃষ্টির মাধ্যমে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার অপচেষ্টা একটি শিক্ষাঙ্গনের মর্যাদা, শালীনতা ও মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে এবং সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য লজ্জাজনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
আরো জানান, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাদা দল নামে একটি পেশাজীবী সংগঠন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসলেও সংগঠনের কয়েকজন সদস্যের অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী মানসিকতার কারণে সাধারণ সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে একতরফাভাবে বর্তমান কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তী সময়ে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও বারবার মৌখিক ও লিখিতভাবে সাধারণ সভা আহ্বানের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানানো হলেও সাদা দলের সভাপতি প্রফেসর ড কাজী মেহতাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড শাহানা বেগম নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেননি।
তারা বলেন, গত ১৪ ফেব্রুয়ারির সাধারণ সভায় পুনরায় কমিটি গঠনের বিষয়টি উত্থাপন করা হলেও এ বিষয়ে উদ্যোগ না নিয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টায় ভিসির সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত সৌজন্য সাক্ষাৎ হঠাৎ করে বাতিল করেন। পরে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে সাক্ষাতের বিষয়ে সাধারণ গ্রুপে মাত্র ৬ মিনিট আগে একটি বার্তা দেওয়া হয়, যা ছিল অস্বাভাবিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল অনুমতি ছাড়াই ভিসির কক্ষে প্রবেশ করে পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়। তারা শালীনতা ও সৌজন্যের সীমা লঙ্ঘন করে ভিসির কাছে পদত্যাগের দাবি তোলে, যা সাধারণ সভার সিদ্ধান্তের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
শিক্ষক নেতৃবৃন্দ জানান, পরবর্তী সময়ে অসত্য ও ভিত্তিহীন তথ্যের ওপর নির্ভর করে ১৬ ফেব্রুয়ারি একটি মানববন্ধনের আয়োজন করে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশাসন সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অসত্য বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়, যা একটি শিক্ষাঙ্গনের মর্যাদার সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ। সাদা দলের নামধারী এই সকল সুবিধাভোগী শিক্ষক বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের অনিয়ম, দুর্নীতি , স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে কখনো কোনো প্রশ্ন না তোলে কিংবা বর্তমান প্রশাসনকে কোনো সহযোগিতা না করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্যই তারা ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের মব সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন, যা সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সমগ্র দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তারা জানান, জাতীয়তাবাদের যে আদর্শ ও চেতনা ধারণ করে এই সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ মুষ্টিমেয় স্বার্থান্বেষী মহলের অপরাজনীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও নৈতিক বিচ্যুতির কারণে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। আদর্শের পরিবর্তে ব্যক্তি স্বার্থ প্রাধান্য পাওয়ায় সংগঠনটি তার মূল লক্ষ্য ও মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত হয়েছে-যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই বাস্তবতায়, নতুন বাংলাদেশের চাহিদা ও সময়োপযোগী দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা, গবেষণা ও সার্বিক একাডেমিক পরিবেশের গুণগত উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘সোনালী দল’ এর আত্মপ্রকাশ সময়ের অনিবার্য দাবি হয়ে ওঠে।
শিক্ষক নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, গণতান্ত্রিক চর্চা, নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও সামষ্টিক কল্যাণের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই উদ্যোগ সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি ইতিবাচক, নিরাপদ ও প্রগতিশীল শিক্ষাঙ্গন হিসেবে প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তারা উল্লেখ করেন, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাদাদল নামধারী শিক্ষকদের হামলায় ভিসি প্রফেসর ড মো আলিমুল ইসলাম, প্রক্টর প্রফেসর ড জসিমউদ্দিন আহাম্মদ, এম সাইফুর রহমান হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড শাহাদাৎ হোসেন ও ভিসি সচিবালয়ে দায়িত্বপালনরত নিরাপত্তাকর্মী সহ কমপক্ষে ৮ জন আহত হন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সাদা দলের বর্তমান কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড কাজী মেহতাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড শাহানা বেগম এর নেতৃত্বে সাদা দলের সাতজন শিক্ষক ভিসি সচিবালয়ে গিয়ে ভিসিকে জামাত ট্যাগ দিয়ে মব সৃষ্টির চেষ্টা করলে প্রশাসন ভবনে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় তারা ভিসিকে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য টানাহেঁচড়া শুরু করলে নিরাপত্তা কর্মীরা তাদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে ভিসি সহ নিরাপত্তা কর্মীরা তাদের হাতে নিগৃহীত হয়। ভিসি সচিবালয়ে হট্টগোলের খবর পেয়ে প্রক্টর প্রফেসর ড জসিম উদ্দিন আহাম্মদ ও ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড মোহাম্মদ সামিউল আহসান তালুকদারসহ সাদা দলের অন্যান্য শিক্ষকরা ভিসি সচিবালয়ে গেলে প্রফেসর ড কাজী মেহেতাজুল ইসলাম এবং প্রফেসর ড শাহানা বেগমের নেতৃত্বে প্রফেসর ড এমদাদুল হক, প্রফেসর ড মোজাম্মেল হক, প্রফেসর ড মোহাম্মদ আতাউর রহমান তাদের উপর চড়াও হন। এ সময় হাতাহাতির এক পর্যায়ে প্রক্টর প্রফেসর ড জসিম উদ্দিন আহাম্মদ সহ অন্যরা আহত হয়।